যশোরের ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু বড়ি। শীত এলেই যশোরের মা-চাচীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বড়ি তৈরির কাজে।এছাড়াও রয়েছে কুমড়ো বড়ির নানা গুনাগুন ও উপকারিতা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে চাল কুমড়া এবং কলায়ের ডাল দিয়ে তৈরি এই বিশেষ শুকনো খাবারটি সারা বছর সংরক্ষণ করে বিভিন্ন তরকারির সাথে রান্না করা হয়।
অত্যন্ত সুস্বাদু খাদ্য উপকরণ হলো কুমড়ার বড়ি। কুমড়ো বড়ি শুধু খেতেই ভালো নয় অনেক উপকারিতাও আছে এই কুমড়ো বড়ির। ঠিক কবে থেকে বাঙালির রান্নাঘরে বড়ির আগমন তা জানা যায় না। তবে প্রাচীন কাল থেকে বিভিন্ন তরকারির সঙ্গে বড়ির ব্যবহার হচ্ছে। শাক থেকে চিংড়ি মাছ বড়ির গুণে বদলে যায় রান্নার স্বাদ। মূলত শীতকালে বড়ি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুমড়ার বড়ি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি। বড়িতে যে ঘরোয়া মশলা মেশানো হয় অর্থাৎ জিরে, আদা, মরিচ এই সবগুলোর নানা উপকারিতা আছে। স্বাদ ফেরাতে খুব ভালো সাহায্য করে কুমড়ো বড়ি। রোগজীবাণুর প্রকোপ থেকে রক্ষা করতেও ভূমিকা রয়েছে এই বড়ির। স্বস্থ্যবিদদের মতে, হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এই বড়ি। কুমড়োয় ভিটামিন, মিনারেল, শর্করা, ফাইবার রয়েছে তাই এই বড়ির উপকারিতা অনেক। কোষ্ঠকাঠিন্য সহ অনেক শারীরিক সমস্যা দূর করে এই বড়ি।
বড়িতে যে ঘরোয়া মশলা মেশানো হয় অর্থাৎ জিরে, আদা, মরিচ এই সবগুলোর নানা উপকারিতা আছে। স্বাদ ফেরাতে খুব ভালো সাহায্য করে বড়ি। শীতে ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি কাশি অনেকেরই হয়। রোগজীবাণুর প্রকোপ থেকে রক্ষা করতেও ভূমিকা রয়েছে বড়ির।
বড়ি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। প্রথমে কলায়ের ডাল ভিজিয়ে রেখে মিহি করে বেটে নেওয়া হয়। এরপর চাল কুমড়া কুঁচি করে ডালের সঙ্গে মিশিয়ে লবণ ও মসলা দিয়ে ভালোভাবে ফোটানো হয়। তারপর ছোট ছোট বলের আকারে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়, যা পরে সংরক্ষণ করা হয় দীর্ঘদিনের জন্য।
যশোরের বিভিন্ন পরিবারে বছরের পর বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী বড়ি তৈরির রেওয়াজ চলে আসছে। এটি শুধুমাত্র স্বাদের জন্যই জনপ্রিয় নয়, বরং পুষ্টিগুণের দিক থেকেও বেশ সমৃদ্ধ। শীতের দিনে খিচুড়ি কিংবা মাছ-মাংসের তরকারির সাথে এই বড়ি বাড়তি স্বাদ যোগ করে।
প্রোটিন জাতিয় খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডিমের দাম বেশি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে গরীবের প্রটিন হিসেবে ব্যবক চাহিদা রয়েছে এই বড়ির।
স্থানীয়রা জানান, বাজারে এখন এই বড়ির বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে শহরের মানুষজন গ্রামীণ স্বাদের এই শুকনা খাবারটি কিনতে আগ্রহী। তাই অনেকেই বাড়িতে বড়ি তৈরি করে বিক্রির মাধ্যমে আয়ও করছেন। যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতকালে এই বড়ি তৈরির ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে, যা বাংলার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।