শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:
জাতীয় ত্রয়োদশ নির্বাচনে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন। তারেক রহমান বললেন,, আমরা ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। “সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম”জিয়াউল আহসানের গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেবেন । নির্বাচনকে ঘিরে, সারাদেশে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হচ্ছে: ইসি সানাউল্লাহ আজ দ্বিতীয় দিনের মত পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস । বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে করে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নিয়ে করা হবে জানাজা । দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ই’ন্তে’কা’ল করেছেন, বিতর্কিত সাক্ষাৎকারের পর, মুক্তির পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন ,তারেক রহমানের ভক্তরা । ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন জনাব তারেক রহমান । ওসমান হাদির জানাযায় লাক্ষো মানুষের ভিড় ।

পাথর লুটের অভিযোগে ৪০জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৬ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন
পাথর লুটের অভিযোগে ৪০জনের নামে মামলা

পাথরখেকোদের’ ছোবলে মরা জলাশয়ে পরিণত হয়েছে সিলেটের ‘পাথরের খনি’ হিসেবে পরিচিত কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা। এখানে মূল টিলার প্রায় কিছুই নেই, গর্ত ঘেঁষে থাকা বসতভিটাগুলো পড়েছে হুমকির মুখে।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগে পাথরখেকোরা খাবলে খেয়েছে এই ‘পাথরের খনি’টি।

রাজনৈতিক পরিচয় আর প্রভাবশালীরা মিলেমিশে এই টিলা থেকে লুটে নিয়েছে শত কোটি টাকার পাথর। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বার বার সংবাদ প্রকাশ হলেও বন্ধ হয়নি পাথর লুট। লুটপাটে কঙ্কালসার হওয়ার পর অবশেষে কুম্ভ কর্ণের ঘুম ভাঙলো পরিবেশ অধিদপ্তরের। টিলা কেটে পাথর লুটপাটের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর ৪০ জনের নামে মামলা করেছে।

সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (পরিবেশ) পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা বাদী হয়ে রোববার বিকেলে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে বিএনপিপন্থি রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে (৪৫) প্রধান আসামি করা হয়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- জালিয়ারপাড় এলাকার মনির মিয়া (৪৫), একই এলাকার আবদুল করিম (৫০), আবদুর রশীদ (৫৫), চিকাচহরের (নারাইনপুর) আইয়ুব আলী (৫৫), একই এলাকার আঞ্জু মিয়া (৫০), সোহরাব আলী (৩৯), তৈয়ব আলী (৪৫), বতুল্লাহ মিয়া (৪০), আবদুল হান্নান (৪০), আনোয়ার আলী (৫৫), আনফর আলী (৫৫), গরীব উল্লাহ (৫৮),  জালিয়ারপাড়ের মো. ইব্রাহিম (৪০), আবদুন নূর (৪৫),  মো. ইসমাইল (৩৮), আলী হোসেন (৩৫), আবুল হোসেন (৩০), ফয়জুর রহমান (৩৮),  রফিক মিয়া (৩৫),  বাবুল মিয়া (৪০), বশর মিয়া (৫০), ফারুক মিয়া (৪০),  কালা মিয়া (৩৮), এলাইছ মিয়া (৩৬),  বাবুলনগরের  রাসেল মিয়া (৩২), চিকাডহরের (নারাইনপুর) লিটন মিয়া (৩৭), পাড়ুয়া উজান পাড়ার সোহেল মিয়া (৩৩), কেয়ামত আলী (৩৮), পাড়ুয়া মাঝপাড়ার হাসনু চৌধুরী (৫৫), চিকাডহরের আবদুর রহিম (৩৮), আকদ্দুছ আলী (৪৫), আজির উদ্দিন (৫৫), নারাইনপুরের আবদুর রহিম (৩৫), হাসন মিয়া (৪২), চিকাডহরের শাহীন মিয়া (৩২), পাড়ুয়া মাঝপাড়ার আলী হোসেন (৪৫), জালিয়ার পাড়ার সেবুল আহমদ (৩৬), হুঁশিয়ার আলী (৪২) ও ফয়জুর রহমান (৩৭)।

মামলায় সাক্ষী রাখা হয়েছে- পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মামুনুর রশিদ, কোম্পানীগঞ্জ থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (নি.) তন্ময় কান্তি দাস ও কোম্পানীগঞ্জ ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াদ আলীসহ পাঁচজনকে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের চিকাডহর মৌজায় অবস্থিত শাহ আরেফিন টিলা এলাকার মাজার, কবরস্থান ও সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে স্থানীয় শ্রমিকদের প্ররোচিত করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথর তোলার মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতি করছিলেন কিছু ব্যক্তি। এ ঘটনায় ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৬ (খ) লঙ্ঘনের দায়ে মামলা করা হয়।

আসামিদের বেশির ভাগই স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মী, সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৩ জানুয়ারি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে কয়েকশ শ্রমিক দিয়ে রেকর্ডীয় ও দৃশ্যমান টিলা ভূমি থেকে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করছিলেন। আসামিরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তাদের তত্ত্বাবধানে শাহ আরেফিন টিলার পার্শ্ববর্তী জালিয়ারপাড়, চিকাডহর নারাইনপুর গ্রামের শত শত শ্রমিক নিয়োজিত করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করাচ্ছেন।

লোকমুখে কথিত আছে, প্রায় ৭০০ বছর আগে হযরত শাহজালাল (রহ.)’র সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সঙ্গী শাহ আরেফিন খাসিয়া পাহাড় এলাকা পরিভ্রমণে এসে এই টিলার চূড়ায় বিশ্রাম নিয়েছিলেন। ১৩৭ দশমিক ৫ একরের টিলাটিতে এখন সেই বিশ্রামের জায়গাটিই শুধু কোনোমতে টিকে আছে। পাথর তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে শুধুমাত্র এই টিলাতেই অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

সরকারি এই টিলাটিতে ২০০০ সাল থেকে অল্প অল্প পাথর তোলা হলেও ২০০৯ সালে একটি চক্র প্রশাসনকে হাত করে পাথর উত্তোলন শুরু করে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বারবার অভিযান চালালেও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়নি।

২০১৮ সালে জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে ৮৭ পাথরখেকোকে চিহ্নিত করা হলেও অধিকাংশই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর